

নারগিস দোজা
যেখানে ওড়ে শঙ্কচিল
কতখানি পথ হেঁটে গেলে তবে সেখানেতে পৌঁছানো যায়—
শান্ত তটিনীর পাড়ে অশ্বথের ডালে কুহু সুরে কোকিলা গান গায়।
সেখানে নদীর মাঝখানে পোতা খুঁটির পরে বসে রোদ পোহায় শীতের মাছরাঙা,
খানিক দূরে নৌকার গলুইয়ে বসে থাকা মাঝি ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ টানে হুকো কল্কের আধখানা ভাঙা।
সেখানে আলের দুপাশে বাতাস ঢেউ খেলে যায় ধানের শীষে,
কৃষ্ণচূড়ার ডালে পেঁচানো সোনালুর লতা দোল খায় মিশে।
ঝুরঝুর ঝরে পড়া সোনালু আর কৃষ্ণচূড়ায় ভরে ওঠে বালিকার কোচড় জামার,
দূরে উঁকি দেয় চপল কিশোর আর ভাবে কিশোরী কি হবে আমার!
ঘরের চাল ছুঁয়ে বাতাসে দোল খায় সিঁদুরে আমের থোকা,
কচি কলাপাতার আড়ালে লুকিয়ে টিয়ার জোড়া দেয় ধোঁকা।
সেখানে আকাশে ওড়ে শঙ্খচিল আর ধূসর ঈগল,
মেঘের তোলা পালবুকেতে নিয়ে উদাসীন আকাশ নীল।
জারুলগাছের নিচে বসে রাখালের বাঁশী তোলে সুর—
কত পথ হাঁটার পর পৌঁছানো যায় সেথা, কত দূর আর কত দূর!
