সম্পর্ক । ফাহমিদা খানম
শিক্ষিত হয়েও নারী নির্যাতিত হয় বলে অবাক হবার কিছু নাই। শৈশব থেকে নারীদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয় তোমার ভালো তুমি বুঝো না! আমরা সবাই তোমার ভালো চাই। যার জন্য স্বাধীন মতামত দেবার ,নেবার ক্ষমতা গড়ে উঠে না।
আবার কিছু নারী নিজের পছন্দের মুল্য দিতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে একুল ওকুল হারায়। সেসব দেখে ভয়ে আর সাহসী হতে পারে না। সমস্যা মনের গভীরে রয়ে গেছে। ফলাফল হলো খুব ভালো পেশায় থেকেও তারা সবাই নির্যাতিত হচ্ছে।
শৈশবে কাছের মানুষদের দ্বারা নিগৃহীত হলেও মা জোর করে চেপে রাখতে বাধ্য করে। যার জন্য স্বাধীন মতামত দুরের কথা নিজের প্রাপ্যতা চাইতেও ভয় পায়। নারী জীবন অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভয় ,ভয় আর ভয়।
শেখানো হয় তোমার বাবা,ভাইদের উপর আস্থা রাখতে অথচ যখন নির্যাতনের শিকার হয় তারাই বলে মানিয়ে নিতে ,মেনে নিতে।
নির্ভরশীলতা এতটা বেশি থাকে যে নির্ভর করতে করতে মানসিকভাবে অথর্ব হয়ে যায় অজান্তেই।নিজের মতামত মূল্যহীন দেখে দেখে এক সময় একেবারে নিশ্চুপ হয়ে যায়।
সবার কথা বলিনি ,অধিকাংশ নারীর কথা বলেছি।
সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় সেল্ফ রেসপেক্ট গড়ে উঠে না। বাহির থেকে সবাই মিলে বলতে থাকে এমন পেশায় থেকে কেন সাহস করে বের হতে পারে না???
বুঝতে হবে পড়ালিখায় ভালো অথবা পেশায় ভালো হলেই যে সাহসী হবে এমন ভাবা ঠিক না। শৈশব থেকে এমনভাবে গড়ে উঠে যেকোন কাজ একা করতে সাহস পায় না।
আর এটার ফায়দা নেয় এদের স্বামী ,শ্বশুরবাড়ি। নরম মনের নারীদের কন্ট্রোল করা সহজ। এরা ঝামেলা এড়াতে প্রথম থেকেই মেনে নেয়। বাবার বাড়িতে যদি ট্রমাটিক পরিবেশে বড় হয় তাহলে সেখানে ফিরতে চায় না। শুধু একটা কম্ফোর্ট জোন পেলে নিজের সাথে সন্ধি করে ,আপোষ করে!
আসলে করতে বাধ্য হয়! অভিভাবক তেমন একটা পাশে থাকে না। থাকলে পত্রিকার সংবাদ হতো না।
এক সময় ভাবতাম দারিদ্র্য সকল যন্ত্রণার মুল!
সেই বিশ্বাস কবে ভেঙেছে! কিছুদিন আগে ডাক্তার একটা মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে তিনদিন না খেয়ে মারাই গেলো! না পৃথিবী থেমে যায়নি। শুনলাম নারীর পরিবার অভিযোগ তুলে নিয়েছে।
কতটা সস্তা জীবন!
উপেক্ষা ,,অবহেলা ,অযত্নে ঝ’রে গেছে। দুই বাড়ির মানুষেরা দায়ী। নারীদের পাশে কেউই তেমন থাকে না।
শিক্ষা মানে আলো ,শিক্ষা মানে অন্ধকার দুর হওয়া কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশে শিক্ষিত কিছু মানুষের মানসিকতা ,মানবিকতা খুবই নিম্নমুখী!
ডিগ্রী অর্জন আর মানুষ হওয়া দুটো ভিন্ন বিষয়।
আমাদের সন্তানদের ভালো স্টুডেন্ট হওয়ার চেয়ে ভালো মানুষ করে গড়ে তোলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে বোধ বিবেক ,মানবিকতা প্রাধান্য পাওয়া ঠিক।
শিক্ষা অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার আগে দরকার ভালো মানুষ হওয়া। মৃত্যুর পর সাথে কিছুই যাবে না। সন্তানদের সহজ আর মানবিক হতে শেখানো জরুরী।
শৈশব থেকে তাদেরকে বুঝাতে হবে কোনো সম্পর্ক আমাদের পছন্দ মাফিক হয় না। কিন্তু সম্পর্কের গুরুত্ব দিতে হবে। সব সম্পর্ক টিকে থাকে যত্ন আর আগলে রাখতে জানলে।
এক তরফা প্রত্যাশা করা যাবে না।
অভিভাবক হয়ে খুশিতে চুপ করে থাকবেন না। সন্তানদের মধ্যে বৈষম্য বন্ধ করুন।
সব কাজের হিসাব দিতে হবে এটা মনে রাখুন।
