কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
বিদ্রোহী প্রিয়ার কবি ও আমাদের শেকড়:
বাঙালির আবেগ, দ্রোহ, প্রেম এবং সাম্যের অন্তহীন প্রেরণা কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সময়ের পরিক্রমায় বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই ক্ষণজন্মা পুরুষের প্রয়াণের অর্ধশতাব্দী পূর্ণ হলো। সাহিত্য ব্যঞ্জন পরিষদের পক্ষ থেকে বাংলা সাহিত্যের এই অবিসংবাদিত মহানায়ককে আমরা জানাই গভীর ও বিনম্র শ্রদ্ধা।
নজরুল কেবল একটি নাম নন; তিনি এক প্রবল ঝাঁকুনি, যা ঘুমিয়ে থাকা জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিল। বাংলা কাব্যাঙ্গনে যখন একধরনের আভিজাত্য ও পরিমিতিবোধের মোড়কে প্রথাগত চর্চা চলছিল, তখন নজরুল এলেন ধূমকেতুর মতো। তাঁর লেখনী শোষিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের মুক্তির বাণী হয়ে ধ্বনিত হয়েছিল। তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতা বাংলা কবিতার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী বাঁক বদল, যেখানে কবি স্বয়ং উচ্চকিত হয়েছেন সমস্ত অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে।
প্রেম এবং দ্রোহের এমন অপূর্ব সমাহার বিশ্ব সাহিত্যে বিরল। একদিকে তিনি যেমন বিরহ ও প্রেমের ব্যাকুলতায় ‘বেদনার দান’ বা বুলবুলের গান শুনিয়েছেন, অন্যদিকে তেমনি সাম্যবাদের জয়গান গেয়ে লিখেছেন ‘গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহি কিছু মহীয়ান।’ তাঁর সৃষ্টির পরতে পরতে রয়েছে মানুষে মানুষে ভেদাভেদহীন এক সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন। বিশেষ করে হিন্দু-মুসলমানের মিলন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক ছিলেন তিনি। তাঁর গান ও কবিতা আমাদের জাতীয় জীবনের প্রতিটি সংকটে পথ দেখিয়েছে, শক্তি জুগিয়েছে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধেও।
আজকের এই দিনে, যখন সমাজ ও সংস্কৃতিতে নানা সংকীর্ণতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তখন নজরুলের আদর্শ আমাদের আরও বেশি প্রয়োজন। তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনা, জীবন সংগ্রামের অদম্য স্পৃহা এবং তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীক আমাদের তরুণ প্রজন্মকে আলোর পথ দেখাবে।
সাহিত্য ব্যঞ্জন পরিষদ বিশ্বাস করে, নজরুলের চিন্তা ও চেতনা কেবল অতীত বা বর্তমানের সম্পদ নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মুক্তির দিশারি। আজ কবির ৫০তম প্রয়াণবার্ষিকীতে আমাদের অঙ্গীকার—নজরুলের অসাম্প্রদায়িক, সাম্যবাদী ও মানবিক চেতনার আলোকবর্তিকা আমরা হৃদয়ে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাব।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পবিত্র স্মৃতির প্রতি সাহিত্য ব্যঞ্জন পরিষদের পক্ষ থেকে সশ্রদ্ধ সালাম।
