আকাশের প্রতি আত্মকথন

মাঝে মাঝে ওই দূর আকাশের পানে চাই,
ভাবি—কতটা নিঃসঙ্গ সে, আপন বলতে কেউ নাই!
বুকের গহীনে জমা কিছু পুঞ্জীভূত মেঘ,
অসহ্য যন্ত্রণায় জাগে তার কান্নার আবেগ।
লুকিয়ে থাকা দুঃখগুলো ঝরিয়ে ফেলে নিচে,
কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি হয়ে পৃথিবীর বুকে মিশে।
আমি তো আকাশ নই, নেই তো সেই বল—
বুক টান টান করে ঝরাতে পারি না অশ্রুজল।
হে আকাশ, তুমি কি মেঘের আড়ালে কাঁদো?
তবে কি তুমি পরাজিত? ভালোবাসার মায়ায় বাঁধো?
তুমি ব্যর্থ—হয়তো হারিয়েছ সব অধিকার,
কিন্তু চেয়ে দেখো, আমি কাঁদি না তোমার মতো বারবার।
আমার বুকে তো কোনো কান্নার ঝরনা নেই,
ধূ-ধূ শুকনো এক মরুভূমি রচিত এখানেই।
তাই চাইলেও তোমার মতো ঝরতে পারি না আমি,
পারি না ভাসাতে চোখ, যা ছিল একদা দামি।
ভেবে দেখো, যে তোমার অস্তিত্বের গভীরে ছিল আঁকা,
সে আজ বিরামহীন আনন্দের ঘোড়ায় সওয়ার, একা।
তার জন্য কেন এই অকারণ অশ্রুপাত?
কেন মিছে কাঁদছ তুমি ব্যাকুল দিন-রাত?
কেঁদো না হে আকাশ, থমকে যাক এই বৃষ্টিধারা,
জমিয়ে রাখো নোনা জল, মেঘেরা হোক দিকহারা।
একদিন যে আসবে সত্যি ভালোবেসে তোমার কাছে,
তার সুখে বিলিয়ে দিও, যত ভালোবাসা জমা আছে।
আজ তবে কিসের জন্য এই অহেতুক রোদন?
কেন মিছে কাঁদছ বলো, কার জন্য এই বিসর্জন?
