অন্তিম সরাইখানার আগে
জীবন এক দীর্ঘ কাফেলার পথ,
প্রতিটি বাঁকে অপেক্ষা করে অজানা অসংখ্য প্রশ্ন।
কেউ কেউ বালুকণার মতো উড়ে যাই অহংকারের বাতাসে,
আর কেউ বা নত কপালে কুড়িয়ে নিই অনুতাপের শিশির।
চোখে যত আলো জ্বলে, তার সব দিশা নয়;
অনেক দীপ্তি কেবলই মরীচিকার উৎসব।
যে হৃদয় নিজেকে জয় করতে শেখে,
তার ভেতরেই জন্ম নেয় নির্মল ভোর।
লোভের বাজারে আত্মা সস্তায় বিকিয়ে যায়,
আর মহত্বের ক্ষুদ্র দান;
স্বর্গীয় পাল্লায় হয়ে ওঠে পর্বতের চেয়েও ভারী।
ক্ষমাই মানুষের সবচেয়ে উজ্জ্বল অলংকার,
নম্রতাই তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরিচয়।
সময় নীরব লিপিকারের মতো
প্রতিটি দৃষ্টি, প্রতিটি উচ্চারণ, প্রতিটি গোপন অভিপ্রায়
অদৃশ্য খাতায় লিখে রাখে অবিরাম।
কোনো শব্দ হারায় না,
কোনো অশ্রুই বৃথা ঝরে না।
শেষ বিকেলের সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে
নিজের আলো গুটিয়ে নেবে,
তখন আমরাও একে একে পৌঁছে যাব
অন্তিম সরাইখানার নিস্তব্ধ দুয়ারে।
সেদিন সঙ্গে থাকবে না অর্জনের পতাকা,
ক্ষমতার আসন কিংবা খ্যাতির মুকুট;
শুধু থাকবে একটি হৃদয়ের সাক্ষ্য,
কতটুকু ভালোবেসেছিলাম,
কতটুকু ক্ষমা করতে পেরেছিলাম,
আর কতটুকু আলো রেখে গিয়েছিলাম
জনসমুদ্রের দীঘল পথের ধুলোয়।
