অসংগতি

একটা দেশের জনসংখ্যার এতো মানুষ মন ভর্তি এত হিংসা ,,দ্বেষ ,জিঘংসা ঘৃণা নিয়ে কিভাবে জীবনযাপন করছে ভাবলে ,দেখলে আশ্চর্য লাগে!
ছক কষে চলা ,ছলেবলে কৌশলে স্বার্থ উদ্ধার করাটা এখন স্মার্টনেস! কিছু মানুষকে দেখে খুব মায়া হয়। পেটভরা হিংসা নিয়ে এরা ঘুরে বেড়ায়।
খেয়াল করে দেখেছি কারো ভালো থাকা এরা সহ্য করতে পারে না। এমন না যে এদের কিছু নাই! কিন্তু স্বভাব!
যতই ভালো থাকুক এরা তুলনায় মেতে উঠবেই। কিছুতেই নেগেটিভ চিন্তাভাবনার মানসিকতা থেকে বের হতে পারে না। কারো সামান্য বেশি আছে কিংবা কারো সন্তানের সাফল্যে খুশি হতে পারে না।
চারপাশে শুধু গ্রুপিং আর পলিটিক্স! কে কাকে ফেলে উপরে উঠবে এই অসুস্থ চিন্তাভাবনা! আগে ভাবতাম বয়সের সাথে সাথে স্থিরতা আর পরিপক্কতা চলে আসে। ইদানীং দেখি কিসের কি!
নিজের দোষ খুঁজে না পেলেও অন্যের দোষ নিয়ে কথা বলতে থাকে। সবচেয়ে খারাপ লাগে ভুল ধরিয়ে দিলেও গলাবাজি করতেই থাকে!
পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের দেখে কি শিখবে এটা ভাবেই না।
আরও বেশি খারাপ লাগে নারী /পুরুষ উভয়ই এই দলে আছে।
অভিভাবক টাকার জন্য সন্তানকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর বানাতে চায়! তার শৈশব কৈশোর কেড়ে নিয়ে লজ্জিত বোধ করে না!
অভিভাবক কেন এতটা লোভী হবে???
ভালো আছে তবু অন্যের ভালো থাকা পছন্দ করে না। সম্ভবত শরীরে জ্বলে!
কেউ ভালো কিছু বললেও এরা খারাপ কিছু বের করেই!
নেগেটিভ চিন্তাভাবনার শক্তি যেমন বেড়েছে সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লাজ ,হায়া ,লজ্জাহীন মানুষের সংখ্যা। শিল্প ,সংস্কৃতি চলে গেছে কতোগুলো অসুস্থ মানুষের কাছে!
এদের কাছে শিক্ষা নাই ,জানার আগ্রহ নাই। আছে কেবল নিজেকে সেরা বলা এবং অন্যকে অসম্মান ,,তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা। মাঝেমধ্যে চিন্তা করি কতটা বেহায়া হলে মানুষের কটুক্তি শুনেও নিজেদের শোধরাতে পারে না!
যেকোন মুল্যে এরা নিজেদের সেরা প্রমাণ করতে মরিয়া!
কিছু মিডিয়া কর্মী তাদের জীবনের খুঁটিনাটি সারাদিন প্রকাশ করে তাদেরকে প্রমোট করে।
একটা দেশের মানুষের রুচি এতটা নিন্মস্তরে নেমে গেছে যে যেকারো বিচার করে ফেলতে পারে সহজেই! অন্যেকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে গালিগালাজের বন্যা বয়ে বেড়ায়। যেকোন পাবলিক পোস্টে কমেন্ট দেখলে মনে হয় এরা কিভাবে এমন চিন্তা করে??
এদের কারা এসব দায়িত্ব দিসে?
কি এক্টা ভয়ংকর অবস্থা।
ভালো থাকা একটা চর্চার বিষয়। সুস্থ আর অসুস্থ কিছুর চর্চার জন্য টাকা পয়সা মুখ্য বিষয় না। মন মানসিকতা মুখ্য বিষয়।
কিন্তু ইদানীং টাকা পয়সার জন্য মানুষ যেকোন কাজ করতে পারে!
আর সেই সাথে অন্যের ভালো দেখলে চুলকানি তো আছেই!
পড়াশোনা নাই ,,জ্ঞান ,বিজ্ঞানের চর্চা নাই। প্রকৃত গুণীদের মুল্যায়ন নাই। কতটা অসুস্থ চিন্তা ভাবনা প্রাধান্য পেয়েছে! পড়াশোনায় আনন্দ নাই ,,বাচ্চাদের কথা কেউ তেমন একটা ভাবে না। কথায় কথায় সবাই তাদের নিচু করে বলে তোদের দিয়ে কিছু হবে না! ঘরে বাহিরে এক ধরনের ট্রমা নিয়ে বড় হতে গিয়ে ক্রিয়েটিভ কিছু চিন্তা মাথায় আসে না।
পড়াশোনার চাপে বাচ্চারা ক্লান্ত হয় ,হতাশ হয় ,ইচ্ছা শক্তি দুর্বল হয়ে যায়।
অনেক বাচ্চা স্কুলে যেতে চায় না পড়াশোনা করতে চায় না।
কারণ সেখানে আনন্দ নাই ,শিক্ষকরা অনেক বাচ্চা সামলাতে গিয়ে নিজেদের কন্ট্রোল রাখতে পারেন না।
স্কুল আর পড়াশোনার পরিবেশ আনন্দেমুখর হলে ,,পড়াশোনার পাশাপাশি বাচ্চাদের ক্রিয়েটিভ কাজ করালে ,,শিক্ষকরা ভালোবেসে উৎসাহ দিলে ,স্বপ্ন দেখাতে শিখালে চারপাশ বদলে যেতো।
ভয়াবহ রকমের গোঁড়ামি অজ্ঞতা ,কুসংস্কার দিয়ে চারপাশ ভর্তি। যে যার ধর্মীয় আচার ,আচরণ করবে সেটা স্বাভাবিক ব্যাপার হলেও এখানে অনেকে সেসব মানতে নারাজ! ধর্ম হয়ে গেছে অনেক মানুষের কাছে স্রেফ লোকদেখানো বিষয়!
ধর্ম যে মনেপ্রাণে ধারণ করতে হবে এটাই অনেকে মানেন না। কতো সহজে অন্যের জান্নাত ,জাহান্নাম ঠিক করে ফেলে!
আল্লাহর সৃস্টির প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করে না। কারণ কি জানি না। এতটা ক্ষুদ্র হয়ে গেছে কিছু মানুষের মন!
আমরা সবাই আসলে না হইছি ধার্মিক, না নাস্তিক!
এমন একটা সেক্টর পাবেন না যেখানে দুই নাম্বারি চলে না!
অথচ নিজেদের অন্যায় খুঁজে পাই না! মনেপ্রাণে ঘৃণার চর্চা ছাড়া কিছু নাই।
ইহুদি ,নাসারাদের গালি দেই কিন্তু সুযোগ পেলে চলে যাই! আবার দেশের বাহিরে গিয়ে নিজেদের নোংরামি গুলো প্রকাশ করে নিজের দেশের সম্মান মাটিতে লুটাতে লজ্জিত হই না!
না হই দেশি, না বিদেশি।
চারপাশে এতো বেশি অসংগতি চোখে পড়ে!!!
