গোলাপ

ফুলকে কখনো মূর্ছা যেতে দেখেছো?
কীভাবে দিনের পর দিন
অযত্ন আর অবহেলায়
একসময়ের টলমলে সৌন্দর্য
ধীরে ধীরে মলিন হয়ে যায়,
বিবর্ণ হয়ে আসে?
আমি দেখেছি।
বাগানের সবচেয়ে সুন্দর গোলাপটি
সেদিনও তার সৌরভ আর সৌন্দর্যে
চারপাশ মাতিয়ে রাখত।
তার পাপড়িতে ছিল প্রাণের উচ্ছ্বাস,
রঙে ছিল দীপ্তি,
আর সুবাসে ছিল এক অদ্ভুত মায়া।
কিন্তু দিনের পর দিন
যত্নের অভাবে,
অবহেলার নীরব স্পর্শে
একদিন সেও হারাতে শুরু করল
তার সেই লাস্যময়ী সৌন্দর্য।
সূর্যের প্রখরতা সহ্য করার মতো
একটু আশ্রয় পেল না,
মাটির গভীর থেকে উঠে আসা
রস পেল না,
ভালোবাসার সিঞ্চন পেল না,
পেল না ভালোবাসা মাখা
একটু যত্নের ছোঁয়াও।
ধীরে ধীরে গোলাপটি রুক্ষ হয়ে উঠল।
টকটকে রঙ ফিকে হতে হতে
একসময় বাদামি বর্ণ হলো।
তারপর একে একে
পাপড়িগুলো ঝরে পড়তে লাগল—
যেন নীরবে হারিয়ে যেতে লাগল
তার জীবনের শেষ রঙটুকুও।
অবশেষে একদিন
গাছটি পুষ্পশূন্য হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
আর আমরাই তখন বিস্মিত হয়ে বললাম—
“এত সুন্দর, সুশোভিত গোলাপটির
এমন দশা হলো কী করে?”
কিন্তু হায়!
কখনো কি একবারও ভেবেছি
আমাদের ত্রুটি কোথায়?
কখনো কি খুঁজে দেখেছি—
গোলাপটির এই বিবর্ণতার পেছনে
আমাদের অবহেলার কতটুকু দায়?
কারণ ফুল হঠাৎ ঝরে যায় না—
অনেক সময়
তার ঝরে পড়া পাপড়িগুলোই
নীরবে বলে যায়,
কতদিন ধরে সে
একটু যত্নের ছিল অপেক্ষায়।
