অদৃশ্য চিঠি

দুপুরের ওপারে
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের
পিচঢালা রাস্তার নিচে
কেউ একজন চিঠি লিখে রেখেছিল
অনেক আগের এক বৃষ্টির দুপুরে।
কেউ জানে না
আমারও ছিল অজানা।
কাল রাতে জানালা খোলা থাকায়
বৃষ্টির ছাঁট এসে বসেছিল
আমার শরীরে একে একে
ঘুম ভেঙে গেল
বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াতেই
তীব্র বৃষ্টি আমাকে
ভিজিয়ে দিল সম্পূর্ণ।
আর সেই ঝরঝর শব্দের ভিতর
হঠাৎ কে যেন
আমার কানে বলল,
চিঠিটার কথা।
আজ দুপুরে
গিয়েছিলাম ঠিক সেখানে
চিঠিটা যেখানে
পিচের নিচে ঘুমিয়ে আছে
সেখানেই দাঁড়িয়ে
চারদিকে তাকালাম।
সংসদ ভবন নেই
বিশাল বিশাল ভবন নেই
মিরপুর সড়ক নেই।
দেখলাম
একটি পর্ণকুটির
কয়েকটি ছনের ঘর
একটি মেঠোপথ
আর একটি নদী।
বাতাস এসে
আমার চুল এলোমেলো করে দিচ্ছে
নদীর জলে তরঙ্গ তৈরি করে একটি শুকনো পাতা
ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল মেঠোপথে
দুটি গরু, একজন রাখাল
আলস্যে হেঁটে যাচ্ছে
অজানা কোনো গ্রামের দিকে।
আকাশের অনেক ওপরে
একটি একলা পাখি
তার ছায়াটুকু ফেলে
উড়ে গেল অনামা কোনো গ্রামের দিকে।
মেঠোপথের ওপারে
দূরের মাঠে
ধানের শীষ হঠাৎ নড়ে উঠল
কেউ কি গান গাইছিল?
নাকি
আমারই ভেতরে
বহুদিন ঘুমিয়ে থাকা
কোনো দুপুর
আজ আবার জেগে উঠেছিল?
সন্ধ্যা নামার আগে
বাতাস আমাকে বলল,
সব হারিয়ে যায় না।
কিছু কিছু মানুষ
পৃথিবী থেকে চলে গেলেও
রয়ে যায়,
যেমন রয়ে গেছে
পর্ণকুটির,
ছনের ঘর,
মেঠোপথ,
আর নদী।
অনেক চেষ্টা করেও
চিঠিটা উদ্ধার করতে পারলাম না
জানতে পারলাম না
কী লেখা ছিল সেখানে
কার জন্য লেখা ছিল
কিংবা কেন এত বছর
পিচের নিচে চাপা পড়ে ছিল
একটি দুপুরের সঙ্গে।
অচেনা দুপুরের
এই অকারণ বিষণ্নতা বুকে নিয়ে
হেঁটে হেঁটে ফিরছি বাসার দিকে
হঠাৎ শুরু হলো বৃষ্টি
ভিজতে ভিজতে
চারদিকে তাকালাম,
দেখি, সব আগের যায়গায়
দাঁড়িয়ে আছে স্বমহিমায়।
শুধু
পিচের নিচে
কোথাও একজনের লেখা
একটি অদৃশ্য চিঠি
এখনো বৃষ্টি ঝরঝর শব্দে
আমাকে ডেকে যাচ্ছে।
