দুর্ঘটনা

১.
বিশাল দীঘিটার মাঝখানে ছোট্ট একটা নৌকার মধ্যে দাঁড়িয়ে গগনবিদারী চিৎকার করতে লাগল মেঘলা,
- কে আছো, বাঁচাও! মাহফুজকে বাঁচাও, মাহফুজ পানিতে পড়ে গেছে… ওকে তোমরা বাঁচাও…
মেঘলার চিৎকার শুনে ওর শ্বশুর-শাশুড়ী, দেবর সবাই দৌড়ে আসলো দীঘির পাড়ে। ততক্ষণে দীঘির পানিতে ভেসে উঠেছে মাহফুজের প্রাণহীন দেহটি।
আজ সকালেই মেঘলা ঢাকা থেকে মাহফুজের সাথে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। বিকালে বাড়ির পেছনের দীঘির পাড়ে ঘুরতে এসে ছোট্ট নৌকাটায় ওঠার বায়না ধরেছিল মেঘলা। আর তার পর-ই ঘটলো এই দূর্ঘটনা!
কয়েকজন মানুষ মিলে মাহফুজকে পানি থেকে তুলে দীঘির ঘাটলায় শুইয়ে দিলো। মাহফুজের নিথর দেহের পাশে বসে জোরে জোরে বিলাপ করতে লাগল মেঘলা,
- আমাকে জোর করে নৌকায় উঠালে তুমি। আমি বারবার বলেছিলাম, আমরা একজনও তো সাঁতার জানি না। কোনো বিপদ হলে? আমার কোনো কথাই শুনলে না…
২.
সাতদিন পর ঢাকায় ফিরল মেঘলা। মাহফুজের পার্সোনাল সেক্রেটারি সোনিয়া আসলো মেঘলাকে সান্ত্বনা দিতে। মেঘলা, দাঁত কিড়মিড় করে মনে মনে বললো,
সেদিন গভীর রাতে মাহফুজ মোবাইলে তোকে বলেছিল না, আমাকে পাহাড়ে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে গভীর খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে সেটাকে বলবে, ‘দুর্ঘটনা’! তারপর তোকে বিয়ে করবে। তার আগেই আমি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দিলাম! আমাকে পাহাড় থেকে ফেলে দেয়ার আগে, আমিই ওকে নৌকা থেকে ফেলে দিলাম। তারপর যখন শিওর হলাম, ও মারা গেছে, তখনই চিৎকার করে ডেকেছিলাম সবাইকে।
