শৈশবের দেশে

হঠাৎ একদিন সময় থেমে গেল;
ধানের শীষে ভোর তখনও শিশিরের মতো কাঁপে,
পূর্বাকাশ মাটির উঠোনে আঁকে রক্তিম আলপনা।
গরুর ঘণ্টা, বাঁশবনের সোঁ সোঁ, অচেনা পাখির ডাক,
সেই ছিল আমার প্রথম পৃথিবীর অভিধান।
কাদামাটি ছিল খাতা, আকাশ নীল কালির দোয়াত,
মেঠোপথের ধুলোয় লিখতাম অক্ষরহীন স্বপ্ন।
গুল্লাছুটের বিকেল জ্বলে উঠত রৌদ্রের প্রদীপে,
কানামাছির চোখ-বাঁধা অন্ধকারে বন্ধুর হাসি
জোনাকির মতো পথ দেখাত আমাদের দুরন্ত শৈশব।
চাঁদ ছিল বিস্ময়ের সাদা প্রশ্ন,
নদী ছিল এক অন্তহীন রহস্য,
আর পৃথিবী ছিল মুঠোভরা আনন্দের রঙিন কাচ।
তারপর হঠাৎ কোথা থেকে বড় হয়ে যাওয়ার ডাক;-
শৈশবের আকাশে টানা হলো অদৃশ্য এক রেখা।
আজও বর্ষার গন্ধে, শিউলি-ভেজা কোনো ভোরে,
নাম না-জানা পাখির ডাকে খুলে যায় পুরোনো দরজা;
দেখি, সবুজের বুক চিরে ছুটছে এক বিস্মিত বালক,
তার পেছনে ছুটছে রোদ, ধুলো, বন্ধু আর কাশফুলের ঢেউ।
মনে হয়, আমি হারাইনি — হারিয়েছে শুধু সেই পৃথিবী;
তবু তার মেঠোপথের ধুলো নক্ষত্র হয়ে লেগে আছে পায়ে।
আজও হৃদয়ের গোপন উঠোনে সে বালকটি অপেক্ষায়,
সময়-থেমে-থাকা সেই দেশের দিকে নিঃশব্দে -বাড়িয়ে দিয়েছে হাত।
আর আমি প্রতিদিন একটু একটু করে খালি পায়ে দৌড়াচ্ছি
দূর কোনো হারানো বিকেলের দিকে নয় —
