হড়কাবান
মনে ছিলো আশ, যাবো কৈলাস—
দেখবো মানস-সরোবর, মিটাবো তিয়াস।
গ্রানাইট-চুনাপাথর শক্ত ভিতে গড়েছে তোমায়;
তোমার পাদদেশেই শুয়ে আছে রাক্ষসতাল হ্রদ।
হিন্দু-বৌদ্ধ-জৈন-বন—
সবার কাছেই তুমি আছো পবিত্রসম;
তাদের কাছে তুমিই ত্রাণকর্তা-রক্ষাকর্তা, তুমিই সর্বেসর্বাতিতম।
হিন্দুরা মানে, তোমাতেই আছে দেবাদিদেব মহাদেব,
যেখানে বসে সৃষ্টি-ধ্বংস-সংহার-প্রলয় নিয়ন্ত্রণে নীলকণ্ঠ।
বৌদ্ধদের কাছে তুমিই আছো সকল সৃষ্টির প্রাণকেন্দ্রে;
তারা মানে, এখানেই ধ্যানেমগ্ন দেবতা হেরুকা চক্রসাম্ভারা।
জৈনদের বিশ্বাস, তীর্থঙ্কর ঋষভদেবের নির্বাণ তোমাতেই।
বনরা জানে, এখানেই আকাশ দেবতা সিপাইমেনের আবাস।
কৈলাস, কুহকিনী, তুমি নিত্য করে চলেছ শুধুই প্রহসন!
নিমেষে ভূপ্রকৃতি রঙ পাল্টে হয়ে যাও মৃত্যু গহ্বর।
কী এক অদৃশ্য রহস্যের অন্তরালে ঘিরে রেখেছো নিজেকে?
তোমার সান্নিধ্যে এলে বদলে যায় মানুষের আকার-আকৃতি।
মানুষ করেছে জয় পর্বতশৃঙ্গ যত, তুমিই আছো অপরাজেয়।
অধরা তুমি, কেন এত ভয় তোমার, কেন করো লুকোচুরি?
অদেখা তুমি, তোমার প্রতি তাই তো সবার এত আকর্ষণ।
কেন করোনি, করতে চাইছ না নিজেকে উন্মোচন!!!!!!!
এভারেস্ট— সাগরমাথা-চমোমুলুমা,
যে নামেই তাকে ডাকি,
তার বিশালতার কাছে নও তো তেমন বড়ো তুমি।
তবে কেন আকস্মিক তোমার প্রলয়ঙ্কারী মূর্তি???????
নিমেষে লণ্ডভণ্ড করলে সাজানো-গোছানো ছিল যে প্রকৃতি।
তোমার সান্নিধ্যে, দর্শনে যেতে পারল না তীর্থযাত্রীদের দল—
সাধারণ জনতা, আবাসভূমি, সমাজ-সংসার সব হলো ধরাতল।
