টাকায় প্রেমের বিনিয়োগ

পকেটে হাত দিতেই একটা পঞ্চাশ টাকার নোট বের হলো।
নোটটা নতুন না, কিন্তু ইতিহাস সমৃদ্ধ পেছনে মোবাইল নম্বর লেখা।
ভাবলাম, “দেখি কাহিনি কী, একবার কল দিই।”
কল দিলাম। ওপাশ থেকে এক ভদ্রলোক সালাম দিয়ে বললেন,
— কে বলছেন ভাই?
আমি বললাম,
— ভাই, আপনার নম্বরটা একটা পঞ্চাশ টাকার নোটে লেখা পেয়েছি। সেখান থেকেই ফোন দিলাম।
ভদ্রলোক একটু থেমে বললেন,
— ওহ! তাই নাকি? আপনি কোথা থেকে বলছেন?
তার কথার টান শুনেই বুঝলাম, “এ বান্দা তো বরিশালের!”
জিজ্ঞেস করলাম,
— ভাই, বাড়ি কি বরিশাল?
বললেন,
— হ, কেমনে বুঝলেন ভাই?
বললাম,
— টানেই ধরা খাইছেন!
এরপর আমি একটু সিরিয়াস হয়ে বললাম,
— ভাই, এইসব টাকায় মোবাইল নম্বর লেখা কি ঠিক?
ভদ্রলোক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
— ভাই, প্রেম করার মতো কোনো মেয়ে পাই না। তাই ভাবলাম, পঞ্চাশ টাকার নোট তো দেশের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়ায় আমার নম্বরও ঘুরুক!
বললাম,
— ও! তা, ফলাফল কী?
তিনি হালকা কাশলেন,
— প্রতিদিন একটা না একটা কল আসে। তবে আফসোস, ৯৫% কলই ছেলেরা দেয়।
আমি বললাম,
— তা, মেয়েরা কেউ দেয় না?
গলা পরিষ্কার করে বললেন,
— কয়েকজন দিয়েছে। তাদের সাথেই এখন ভাব জমেছে ভালোই।
জিজ্ঞেস করলাম,
— কবে থেকে শুরু করেছেন এই “টাকাকেন্দ্রিক ভালোবাসার হেল্পলাইন”?
বললেন,
— রোজার ঈদের আগে একদিন ঝাল মুড়ি খেতে খেতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেদিনই শুরু করি।
আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলাম।
তারপর বললাম,
— আচ্ছা ভাই, আপনার প্রেম প্রচেষ্টায় শুভ কামনা রইল।
কল কেটে দিলাম।
আমি এখন ভাবছি,
“এই দেশে টাকা শুধু লেনদেনের মাধ্যম না, কেউ কেউ প্রেমেও বিনিয়োগ করে!”
