ঘুড়ি

ঘুড়ি ছিঁড়ে গেলেও, দূর থেকে তার ভেসে যাওয়া দেখতে মন্দ না।
সুতো হাতে না থাকলেও, আকাশে তার রংটা তো ছিল।
আমারই ছিল।
যে দূরে সরে যায়, তাকে সরে যেতে দিতে হয়।
নিজের মূল্য বোঝাতে।
আমরা ভাবি
‘একদিন বুঝবে। একদিন ফিরে আসবে।’
কিন্তু আসলে কি বোঝে?
কেউ কেউ বোঝে না।
আর কেউ কেউ বোঝে, কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যায়।
আমাদের হাতে তখন আর নতুন সুতো থাকে না।
শুধু পুরনো সুতোর গিঁট থাকে।
এই,’বোঝাবে’ ,আর ‘বুঝবের’খেলায়
কখন যে জীবনের সুন্দর সময়টা চলে যায়,
টেরই পাই না।
বসন্ত চলে যায়, শরৎ আসে।
চুলে পাক ধরে, কিন্তু উত্তর আসে না।
তাই মাঝে মাঝে সুতো ছেড়ে দিতে হয়।
ঘুড়িকে উড়তে দিতে হয়।
আর নিজেকে বলতে হয়,
‘আমি ঘুড়ি না। আমি সেই হাত,
যে আবার নতুন ঘুড়ি বানাতে জানে।’
দূরে ভেসে যাওয়া ঘুড়িটার দিকে তাকিয়ে
হাসতে শিখতে হয়।
কারণ ওটা উড়েছে বলেই
আমি আকাশটাকে চিনেছি।
