প্রতীক্ষা

প্রতীক্ষাতে, স্টেশনে একা।
ট্রেন পৌছে গেলেই হবে,
তোমার-আমার দেখা।
আর কতকাল থাকবো আমি,
রেল লাইনের ধারে?
হৃদয় আমার পড়ে আছে,
তোমার নদীর পারে!
ট্রেন আসলে যাত্রা হবে শুরু।
আজ দুজনার দেখা হবে,
বুকটা দুরু-দুরু।
আকাশ-পাতাল ভাবছি আমি,
স্টেশনে বসে।
আমার বুকের মাঝে তুমি,
কত বেড়াও চষে।
ট্রেন ছুটবে; থাকবে তুমি,
আমার দেহের পাশে।
এলো চুলে মুগ্ধ বাতাস,
জানলা দিয়ে আসে।
এ বুক ভরে সুবাস নেব,
কাঁধের, চুলের, গায়ের।
চোখ জুড়াবো দেখে তোমার,
রাঙা নূপুর পায়ের।
ফর্সা গলা; খালি।
ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি,
চাঁদ যেন এক ফালি।
লাল ওড়না সযতনে,
বুক রেখেছে ঢেকে।
চাঁদের আলো নিভে যাবে,
ওই রূপটা দেখে।
তোমার দেহের পরশ আমার,
হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।
আড়াল করে রাখবো তোমায়।
আর কে তোমায় পাবে।
কাজল চোখে নয়ন রেখে,
ভুলে যাবো রাতটা।
কাঁপা হাতে ছুঁবো তোমার,
লতার মত হাতটা।
স্টেশনে থামল গাড়ি,
তুমি বুকের পাশে।
বসে বসে দেখছি দুজন,
কে যায়, কে আসে।
তুমি তখন চেয়ে আছ,
ওই ছেলেটার পানে।
আমার বুকে কাঁটার ব্যথা,
কে সেটা আর জানে?
আমায় দেখে মুচকি হাসো,
বুকে ধরাও আগুন।
হাসি দিয়ে চিমটি কাটো,
এটাই নাকি ফাগুন।
অভিমানে বলেই ফেলি,
“আমায় ভালবাসবে না?”
হঠাৎ করেই ঘোষণা হয়,
এই ট্রেন আর আসবে না।
